বক্তব্য শুরুতে কি বলতে হয়: বক্তব্য শুরুতে ১০টি কার্যকরী উপদেশ

ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবনে বর্তমান সময়ে মানুষ কোনো তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠান, শিল্প সম্মেলন, কোম্পানির মিটিং, বিবাহ এবং স্কুল পুনর্মিলন ইভেন্টের জন্য বক্তব্য দেয়। বক্তব্য লেখার একটি চ্যালেঞ্জিং উপাদান হল কিভাবে নিজের কোনো বিষয়কে শ্রোতাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যায় তা নির্ধারণ করা। বক্তব্য শুরু করার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি শেখা আপনাকে আপনার দেওয়া প্রতিটি বক্তব্য’র জন্য একটি আদর্শ ভূমিকা চয়ন করতে দেয়।

এই নিবন্ধে, আমরা বক্তব্য শুরু করার ভিন্ন উপায় বর্ণনা করবো এবং প্রতিটি ধরনের ভূমিকা আপনাকে কীভাবে তথ্য জানাতে এবং আপনার শ্রোতাদের সাথে সংযোগ করতে সাহায্য করতে পারে বর্ণনা করবো।

স্কুল কলেজ কিংবা সকল স্থানে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় থাকে বক্তব্য। কোনো অনুষ্ঠানে গেলেও আবার সেখানে বক্তব্য হয়ে ওঠে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে বক্তব্যর ভেতরের অংশ আর শেষের অংশ সহজভাবে বর্ননা করতে পারলেও অনেকে, বক্তব্য কিভাবে শুরু করবেন তা নিয়েই দ্বন্দ্বে পড়ে যান।

অনেকের তো বক্তব্য দিতে গেলে হাত-পা কাঁপা শুরু হয়ে যায়, গলা শুকিয়ে বা হার্টবিট বেড়ে যায় । তাই একটি সফল ও প্রাণোচ্ছল বক্তব্য কিভাবে শুরু করবেন, তা জানতে হলে লেখাটি সম্পূর্ণ পড়তে হবে। আপনারা যারা দ্বিধায়, বক্তব্য শুরুতে কি বলতে হয় তাদের এই লেখাটি অবশ্যই উপকার করবে। কেননা, এই লেখায় বক্তব্য শুরু করার সবগুলো বিষয় ধাপে ধাপে আলোচনা করা হয়েছে।

সহজ কিছু বিষয় মনে রাখলে সাবলীলভাবে উপস্থিত বক্তব্য দেওয়া সবার পক্ষেই সম্ভব। একজন সাবলীল বক্তা হওয়ার এবং বক্তব্য শুরুতে কি বলতে হয় তার দশটি কার্যকর উপায় নিম্নে আলোচনা করা হলঃ

১। বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে প্রস্তুতি গ্রহণ:

কোন বক্তব্য বা বক্তৃতা দেওয়ার আগে প্রায় সবাই অস্থির বোধ করে। এই অস্থিরতা বা ভয় দূর করার জন্য বারবার বক্তৃতা অনুশীলন করতে হবে। নোটগুলো বারবার পড়ে দেখুন যে সব ঠিক আছে কিনা। যখন মনে হবে যে আপনার বক্তব্য ঠিক হয়েছে, তখন বারবার অনুশীলন করতে থাকুন। নিজের বক্তব্য ভিডিও করে অথবা কোন বন্ধুকে বক্তব্যের সমালোচনা করতে বলুন।

২। দর্শক বুঝে বক্তব্য দেওয়া:

আপনার বক্তব্য তৈরি করার আগে কাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিচ্ছেন, সে ব্যাপারে জেনে নিন। ফলে আপনি কোন ধরণের শব্দ বলবেন, কী ধরণের তথ্য দেবেন, বক্তব্যের ধরণ কেমন হবে, সে সম্বন্ধে একটা ভালো ধারণা পাবেন।

৩ উদ্ধৃতি ব্যবহার করুন ও শুরুতেই মনোযোগ আকর্ষণ করুন

বক্তব্য শুরু করার এবং শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার একটি পদ্ধতি হল কোনো বিখ্যাত বা আলোচনা রিলেটেড এক বা একাধিক উদ্ধৃতি ব্যবহার করা। এই পদ্ধতিটি আপনার বক্তব্য বিষয়ে আপনার দর্শকদের প্রসঙ্গ দিতে পারে এবং তারা বোধগম্য কিছুর সাথে নিজেকে সংযুক্ত করতে পারে।

শ্রোতা ও দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য গতানুগতিকভাবে বক্তব্য শুরু না করে কোন চমকপ্রদ তথ্য, বা অসাধারণ কোনো উক্তি দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। বক্তব্য শেষ করার সময় পুরো বক্তব্যের সারমর্ম এবং স্ট্রঙ পয়েন্ট দিয়ে শেষ করতে হবে যা আপনার দর্শক অবশ্যই মনে রাখবে।

উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি কোনো রাজনৈতিক বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনা করেন, আপনি আপনার বক্তব্যর বিষয় সম্পর্কে একটি বিখ্যাত উদ্ধৃতি ব্যবহার করতে পারেন।

নিজের বক্তব্যের জন্য কাঠামো দাঁড় করান। বক্তব্যের ধাপগুলো লিখে রাখুন। প্রথমেই বিষয়টির নাম লিখে রাখুন, তারপর বিষয়টির কোন কোন দিক নিয়ে আপনি কথা বলতে চাও, তা লিখে ফেলুন। বক্তব্যের প্রথম ৩০ সেকেন্ডেই শ্রোতার মনোযোগ আকর্ষণ করার দিকে জোর দেন।

৪। বক্তব্য কিভাবে শুরু করবে:

উপস্থিত বক্তব্য শুরু করার নিয়ম গুলোর মধ্যে প্রথম নিয়ম হলো কাগজ অথবা স্লাইড দেখে বক্তব্য না দেওয়া। এটি শ্রোতার সাথে আপনার সংযোগে ব্যাঘাত ঘটায়। শ্রোতার দিকে তাকিয়ে কথা বললে আপনার এবং বক্তব্যের দিকেই সবার নজর থাকবে। বক্তব্যের কাঠামো আপনাকে বিষয়বস্তু মনে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

৫। স্বরভঙ্গির বা গলার টোন এর যথাযথ ব্যবহার:

বক্তব্যে কী বলছেন, কীভাবে বলছেন, সেটাও সমান গুরুত্ব বহন করে। বক্তব্যে গলার স্বর কখন ওঠাতে হবে এবং কখন নামাতে হবে, সে ব্যাপারে মনোযোগ দিতে হবে। একইভাবে ও একই টোনে কথা বলে গেলে শ্রোতা-দর্শক বক্তব্য শোনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাই গলার স্বরে তারতম্য এনে শ্রোতা-দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখতে হবে। এর ফলে আপনার আইডিয়াগুলো তারাখুব সহজেই বুঝতে পারবে।

৬। শ্রোতা-দর্শকের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া:

আপনার বক্তব্যে শ্রোতা-দর্শকের দিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের প্রতিক্রিয়া লক্ষ করুন, প্রয়োজন হলে বক্তব্যে কিছু পরিবর্তন আনুন। একদম গৎবাঁধা বক্তব্য দিলে আপনি সবচেয়ে আগ্রহী শ্রোতারও মনোযোগ পাবেন না।

৭। নিজের ব্যক্তিত্বকে বক্তব্যের মাঝে ফুটিয়ে তুলুন:

নিজের মত করেই সবসময় কথা বলবেন, কখনোই একদম গাছের মত শক্ত হয়ে গিয়ে শুধু মুখ নাড়াবেন না। যখন সাবলীলভাবে আপনি কথা বলবেন, তখন শ্রোতারা আপনার কথা বিশ্বাস করবে। তখনই আপনার বক্তব্যের উদ্দেশ্য সফল হবে।

৮। গল্প, কৌতুকের মাধ্যমে শ্রোতাকে আকৃষ্ট করা:


আপনার বক্তব্যের মধ্যে সরস, মজাদার কোন কৌতুক থাকলে দর্শক অবশ্যই তার দিকে আকৃষ্ট হবে। তাছাড়াও শ্রোতা ও দর্শক কোন বক্তৃতার বা বক্তব্যের মাঝে গল্প শুনতেও পছন্দ করে। এজন্য বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোন গল্প শর্ট স্টোরি বলা যেতে পারে।

৯। প্রযুক্তি ব্যবহার ও মনের মাঝে আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে:

বক্তব্য দেয়ার সময় অডিও/ভিডিওর আধিক্য শ্রোতা ও দর্শকের সাথে আপনার সম্পৃক্ততা কমিয়ে দেয়। তাই এগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। এমনভাবে অডিও/ভিডিও আপনার বক্তব্যে ব্যবহার করতে হবে যেন আপনার বক্তব্য বাধাগ্রস্ত না হয়, বরং এগুলোর উপস্থিতিতে বক্তব্য আরও শাণিত হয়, হয় প্রাণবন্ত। মনের মাঝে আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে

বক্তৃতায় সবসময়ই আরও ভালো করার জায়গা থাকবে। তোমার কাছ থেকে কেউ নির্ভুল বক্তৃতা আশা করে না। তবে তুমি যদি বক্তব্য তৈরি করার পেছনে যথেষ্ট সময় দাও, তাহলে ভালো বক্তৃতা দেওয়া তোমার জন্য সহজ হবে। তাই, আজ থেকেই সাবলীল বক্তা হওয়ার জন্য অনুশীলন শুরু করে দাও!

১০। দুশ্চিন্তা না করে বক্তব্য দিন

আপনি বক্তব্য দেয়ার সময় কোনো প্রকার টেনশন বা দুশ্চিন্তা করবেন না। মনের মাঝে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে ভাববেন না স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করবেন। বক্তব্য শুরু করার সময় আপনাকে পুরোপুরি দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে হবে।

১১। বক্তব্য এর সমন্বিত কাঠামো

সবশেষে, বক্তব্য এর মাঝে একটি সুসংগঠিত কাঠামো বা Cohesive স্ট্রাকচার অপরিহার্য। বক্তব্যে একটি ভাল ভূমিকা বা good introduction খুব জরুরি। শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করার এবং বক্তব্যের বিষয় এবং উদ্দেশ্য নিয়ে পরিচয় করিয়ে দিতে হব। তারপর, বক্তব্যের মূল পয়েন্ট( key points ) ও evidence যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করা উচিত।

উপসংহারে মূল বিষয়গুলো সংক্ষিপ্ত করা উচিত এবং বক্তব্যের কেন্দ্রীয় বার্তাকে ( central message ) শক্তিশালী করতে হবে।

যদিও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলির মতো এই উপাদানও একটি কার্যকর বক্তব্যের জন্য অপরিহার্য।